যে দোয়া পড়বেন ডায়বেটিস হলে

ডায়বেটিস অনেক বিপদজ্জনক রোগ। যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপন না করে তবে এ রোগের ভয়াবহতা মারাত্মক। এতে শারীরিক অন্যান্য বড় বড় রোগ হার্ট, কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। তাই এ রোগ থেকে নিরাপদ থাকতে শৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনের বিকল্প নেই্।

যদি কারো ডায়বেটিস রোগ হয় তবে তাকে অবশ্যই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপন করতে হবে। নিয়মানুযায়ী শারীরিক ব্যায়ম ও নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ করতে হবে।

এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে রয়েছে কুরআনি আমল। সুতরাং ডায়বেটিকে আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত কুরআনি আমল করা। আর তাহলো-

رَّبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا

উচ্চারণ : রাব্বি আদ্খিলনি মুদ্খালা সিদ্ক্বিও ওয়া আখরিঝ্নি মুখরাঝা সিদ্ক্বিও ওয়াঝ্আললি মিল্লাদুংকা সুলত্বানান নাছিরা।’ (সুরা বসি ইরসাইল : আয়াত ৮০)

আমল

 

যদি কোনো ব্যক্তির ডায়বেটিস রোগ হয় তবে সে ব্যক্তি উল্লেখিত আয়াতটি প্রতিদিন ৪১বার পাঠ করবে।

তাছাড়াও যারা মানসিক চাপ, বিষন্নতা ও বিভিন্ন কষ্ট ভোগ করেন, তারাও এ দোয়াটি প্রতিদিন ৫ করে পড়তে পারেন। আশা করা যায়, এতে তার উল্লেখিত রোগ ও সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিভিন্ন রোগ মুক্তিতে কুরআনি আমল করার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত দোয়া পাঠের মাধ্যমে ডায়বেটিক, মানসিক চাপ বিষন্নতা ও বিভিন্ন কষ্ট থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে তিন শ্রেণির লোক সাদা চুল কালো করতে পারবেন

 চুলে ও দাড়িতে খেজাব বা কলপ করার বিধান

১) চুলে খেজাব বা কলপ করার বিধান।

২) চূল ও দাড়ীতে কালো রং লাগানো হারাম এবং

৩) অল্প বয়সে চুল পাকলে করণীয়।

মূলকথা হলো, ইসলামী শরীয়াতে পাকা চুলে কাল খেজাব বা কলপ ব্যবহার করা হারাম।

চুলকে কাল রঙে রঞ্জিত করা হারাম। হাদিসে কাল খেজাব বা কলপ সম্পর্কে যে হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে তাতে একথাই প্রমাণিত হয়।

এ প্রসঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

 

“শেষ যামানায় একদল লোক কবুতরের বুকের রঙের ন্যায় কাল খেজাব বা কলপ ব্যবহার করবে । আর এ কারণেই তারা জান্নাতের কোন সুগন্ধিও পাবে না।”

 

***আবু দাউদ: ৪/৪১৯; আহমদ, নাসায়ী, আবু দাঊদ: ৪২১২; জামে: ৮১৫৩।

 

অনেক চুল পাকা ব্যক্তিকে এ কাজ করতে দেখা যায়। তারা কাল রঙ দ্বারা সাদা চুল রাঙিয়ে নিজেদেরকে যুবক কিংবা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী যাহির করে। এতে প্রতারণা, আল্লাহর সৃষ্টিকে গোপন করা (“আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই” [সুরা রুম; আয়াত: ৩০:৩০])

ও মিথ্যা আত্ম তৃপ্তি ছাড়া আর কোন কিছুই হয় না। এর ফলে ব্যক্তিগত চালচলনের উপর নিঃসন্দেহে এক প্রকার কুপ্রভাব পড়ে। আর অন্য মানুষ এতে প্রতারিত হয়। নাবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাকা চুলে খেজাব লাগাতে বলেছিলেন মেহেদী বা এ ধরনের কোন জিনিস দ্বারা, যাতে হলুদ, লাল ইত্যাদি মৌলিক রঙ ফুটে ওঠে। তবে কাল রঙ দ্বারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই খেজাব লাগানোর অনুমতি দেন নাই।

আবু বকর (রা:)-এর পিতা আবু কুহাফা (রা:)-কে মক্কা বিজয়ের দিন যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে হাজির করা হয় তখন তাঁর চুল দাড়ি এত সাদা হয়ে গিয়েছিলো যে, তা সাগামা অর্থাৎ কাশ ফুলের ন্যায় ধবধবে দেখাচ্ছিল। তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখে বলেছিলেন: “তোমরা কোন কিছু দ্বারা এটা পরিবর্তন করে দাও। তবে কাল রঙ থেকে বিরত থাকো।”

 

***মুসলিম: ৩/১৬৬৩।

খেজাব মানে সাদা চুলে কালো রং লাগানো। চুল, দাঁড়িতে কালো রং ব্যতীত যে কোন রঙের খেজাব লাগানো সুন্নাত। যেমন,

 

জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ

 

মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফা [আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর পিতা] সাদা ধবধবে চুল, দাঁড়ি নিয়ে রাসুল (সাঃ)-এর সামনে আসলেন। নবী (সাঃ) তাঁকে বললেনঃ

 

“এগুলিকে কোন কিছু দ্বারা পরিবর্তন কর। তবে কালো রং থেকে বিরত থাকো বা ব্যতীত।”

***মুসলিম, মিশকাত: ৩৮০ পৃঃ।

 

রাসূল (সা:) বলেছেন:

 

“মেহেদীর রং হল সর্বোত্তম খেজাব।”

 

***আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত: ৪৪৫১।

 

উল্লেখ্য যে, নারীদের চুলে কলপ ব্যবহার করার বিধান পুরুষদের চুলে কলপ ব্যবহার করার বিধান একই। কোন তফাৎ নাই।

এই দুনিয়াতে আমাদের মধ্যে নিষিদ্ধ যে কোন বস্তুর প্রতি আকর্ষণ যে কোন সিদ্ধ বা হালাল বস্তুর তুলনায় অতুলনীয় ভাবে বেশী। সকল রঙকে চুলে লাগানোর জন্য বৈধ করা হয়েছে মাত্র একটি রঙ (কালো) বাদে। অথচ এই একটি রঙের প্রতি আকর্ষণ অন্য সকল রঙের তুলনায় হাজারো গুন বেশী। ইচ্ছা করলেই আমরা শরীয়াত বিরোধী এ কাজ থেকে বেচে থাকতে পারি।

হাদিসে এসেছে যে. মুসলিম/মুমিনের একটি চুল সাদা হলে একটি গোনাহ ঝরে যায়, একটি নেকী ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহর রহমত লাভ হয়।

পাকা চুল ও দাড়িতে রহমত ও বরকত:

 

পাকা চুল ও দাড়ি উঠানো যাবে না। কারণ,

 

রাসূল (সা:) বলেছেন:

 

‘তোমরা পাকা চুল তুলে ফেলো না। কেননা পাকা চুল হ’ল মুসলমানের জ্যোতি। কোন মুসলমানের একটি চুল পেকে গেলে আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লিখেন, একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি পাপ মোচন করেন।’

 

***নাসাঈ, মিশকাত: ৪৪৫৮ ‘সনদ হাসান’।

 

অন্য বর্ণনায় আছে:

 

‘পাকা চুল মুসলমানদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন নূর হবে।’

 

***তিরমিযী: ১৬৩৫, মিশকাত: ৪৪৫৯ ‘পোষাক’ অধ্যায় ‘চুল আঁচড়ানো’ অনুচ্ছেদ।

সুতরাং এগুলি উপড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

মহান আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।

 

চূল ও দাড়ীতে কালো রং লাগানো হারাম

 

আমি নিজেকে দিয়েই শুরু করছি। অনেক বছর হলো আমার মাথার কিছু চূল এবং দাড়ি সাদা রং ধারণ করেছে। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের যে দেশেই আমি অবস্থান করেছি এবং করছি সেখানকার নাপিতরা অনেক চেষ্টা করেছে চূলের সাদা রং কে কালো করে দেওয়ার। কিন্তু আমার সাদা চূল ও দাড়ি আজ অবধিও কেউ কালো করে দিতে পারে নাই। অবশ্য আমি নিজে আমার মাথার চুলে পাতার মেহেদি লাগিয়েছি যদিও বেশি চুল সাদা হয় নাই। আমি অনেক বছর আগে থেকেই জেনেছিলাম যে, সাদা চুল ও দাড়িকে অন্য রং ব্যতীত কালো রং করা বড় গোনাহের কাজ। সেই থেকে মহান আল্লাহ আমাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছেন।

আমাকে যদি কেউ সারা দুনিয়ার সকল সম্পদও দেয় তবুও আমার একটি সাদা চূলকে কালো রং এ পরিবর্তন করতে পারবে না ইন-শা-আল্লাহ। শুধু তাই নয়, অনেকেই সাদা চুলকে উপড়ে ফেলে বা তুলে ফেলে। আমি আজ অবধিও কোন সাদা চুল জ্ঞান থাকাবস্থায় তুলে ফেলিনি বা উপড়িয়ে ফেলি নাই। কারন, আমি জানি যে, আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই এবং আমি এই মুহূর্তেও দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে পারি। আমি যত পাপীই হই না কেন, আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে কিভাবে যাবো?

অনেক মসজিদের ইমামদের দেখেছি তারা চূলে কালো রং লাগিয়ে মিম্বরে দাড়িয়ে আল্লাহর কালাম পাঠ করে। আসলে তারা অনেক যুক্তি দেখায় যে, একটু সমস্যা আছে তাই কালো রং লাগিয়েছি। আসলে তাদের তাকওয়া নেই। তারা দুনিয়াকে লোভনীয় হিসাবে ধারন করেছে এবং দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা অন্তরে ধারণ করতে পারে নাই।

আমি এটুকু বুঝতে পারি যে, আজকে যদি সাদা চুলকে কালো রং বানিয়ে নেই তাহলে কয়েকদিন পরে আবার সেই চুলগুলো সাদা হয়ে যাবে। সাদা চুলকে কেউই চিরদিনের জন্য কালো বানিয়ে দিতে পারবে না। মুমিনদের জন্য সাদা চুল হলো মহান আল্লাহর রহমত এবং যার যার জীবনের পরিসমাপ্তির ইংগিত বহন করে। হাদিসে সাদা চুলকে অন্য রং ব্যতীত কালো রং লাগানোকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেছেনঃ

 

“তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।”

 

***সূরা রুমঃ আয়াতঃ ৩০:৩০।

এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এখানে আল্লাহর সৃষ্টি বলতে প্রকৃতিগতভাবে মহান আল্লাহর সৃষ্ট সকল সৃষ্টিকেই বুঝানো হয়েছে। যেমনঃ সাদা, কালো চূল-দাড়ীও প্রকৃতিগতভাবে মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং কোন সৃষ্টিরই পরিবর্তন করা হারাম।

রং দিয়ে চুল- দাড়ি রঙ্গানোর হাদিসসমূহঃ

 

চুল বা দাড়িতে কালো রং লাগানো একটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ। কিন্তু সাদা চুল-দাড়ী মেহেদি বা অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করা নবী (সাঃ)- এর সুন্নাত। তিনি সাদা চুলকে কালো রং বাদ দিয়ে অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করতে আদেশ দিয়েছেন।

আবু হুরায়রা (রাদিঃ) হতে বর্ণিতঃ

 

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ

 

“ইয়াহুদী ও নাসারারা চুল ও দাড়ীতে খেযাব লাগায় না। সুতরাং তোমরা খেযাব লাগিয়ে তাদের বিপরীত কর”।

 

***বুখারীঃ অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বিয়া।

 

কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে লোকেরা এ আদেশ অমান্য করে কালো রং দিয়ে খেজাব (কলপ) লাগাবে।

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ

 

“আখেরী যামানায় একদল লোকের আগমণ হবে যারা সাদা চুল-দাড়ী কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করবে। তারা জন্নাতের গন্ধও পাবেনা”।

 

***আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তারাজ্জুল, আলবানী (রহিঃ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

হাদীসের ভাষ্য বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পুরুষদের মাঝে দাড়ী ও মাথার চুল কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিঃ) থেকে বর্নিতঃ

 

তিনি বলেছেনঃ

 

“অর্থাৎ শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা (চুল বা দাড়ীতে) কালো রং লাগাবে। যা দেখতে কবুতরের পেটের ন্যায়। তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না”।

***আবু দাউদঃ ৪২১২; নাসাযঈঃ ৫০৭৭।

 

কারোর মাথার চুল বা দাড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো ছাড়া যে কোন রং লাগানো সুন্নাত।

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিঃ) থেকে বর্নিতঃ

 

তিনি বলেছেনঃ

 

“মক্কা বিজয়ের দিন (আবূ বকর (রাদিঃ) এর পিতা ) আবূ কোহাফাহকে (রাসূল (সাঃ) এর সামনে উপস্থিত করা হলো । তখন তার মাথায় চুল ও দাঁড়ী সাদা ফল ও ফুল বিশিষ্ট গাছের ন্যায় দেখাচ্ছিলো। তা দেখে রাসূল (সাঃ) সাহাবাদেরকে বললেনঃ তোমরা কোন কিছু দিয়ে এর রং পরিবর্তন করে দাও। তবে কালো রং কিন্তু লাগাবে না”।

***আবু দাউদঃ ৪২০৪; নাসাঈঃ ৫০৭৮।

 

তবে রাসূল (সাঃ) সাধারণত মেহেদি, জাফরান ও অর্স (লাল গোলাপের রস) দিয়ে রং করতেন।

আবূ রিমসাহ (রাদিঃ) থেকে বর্নিতঃ

 

তিনি বলেছেনঃ

 

আমি ও আমার পিতা রাসূল (সাঃ) – এর কাছে আসলে তিনি আমার পিতাকে বলেনঃ এ ছেলেটি কে? তখন আমার পিতা বললেনঃ সে আমারই ছেলে। তখন রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তুমি তার সাথে অপরাধমূলক আচরণ করো না । হযরত আবূ নিমসাহ বলেনঃ তখন তাঁর দাড়ী মেহেদি লাগানো ছিলো।

 

আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেনঃ

 

“নবী (সাঃ) চামড়ার জুতো পরিধান করতেন এবং অর্স তথা লাল গোলাপের রস ও জাফরান দিয়ে দাঁড়িটুকু হলুদ করে নিতেন”।

 

***আবূ দাউদঃ ৪২১০।

রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেনঃ

 

“নিশ্চয় সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা দিয়ে বার্ধক্যের সাদা বর্ণকে পরিবর্তন করা যায় তা হচ্ছে মেহেদি ও কাতাম; যার ফল মরিচের ন্যায়”।

 

***আবূ দাউদঃ ৪২০৫; নাসাঈঃ ৫০৮০।

 

উল্লেখ্য যে, কালো রং দিয়ে কলপ বা খেজাব লাগানোর যে হাদিস বলা হয় তা সবই জাল।

ইসলাম সাবধান করে ভাবিকে মায়ের মতো ভাবতে

 আমাদের সমাজে অনেকের ধারণা- ভাবি হলো মায়ের মতো। ভাবি তাই দেবরের সামনে পর্দার কোন প্রয়োজনীয়তা মনেই করে না। ঘরের মধ্যে ভাবি দেবরের সাথে কতো কিছু যে শেয়ার করে! একটা নোংরা প্রবাদ আছে, ‘স্বামী আমার যেমন তেমন, দেবর আমার মনের মতোন।’- এসব নোংরা কথা প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়। আর ভাবিকে এখানে-সেখানে নেওয়ার কাজটা দেবরই ভালো করে করতে পারে। এমন কি শ্বশুর-শাশুড়িও মনে করে যে বড় বউ একটু বাইরে যাবে তো এক্ষেত্রে আমার ছোট ছেলেই নিয়ে যাক। কিন্তু আসল ঘটনা কি?

আমরা মাঝে মাঝে শুনতে পাই কিংবা পত্রিকায় দেখি যে, দেবর তার ভাবিকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এটা কেমন কথা হল? ভাবি কি মায়ের মতো! ছেলে তো মাকে নিয়ে ভেগে যাওয়ার কথা না। এটা কেমন মা, যে দেবর নামক ছেলেটি ভাবি নামক মাকে নিয়ে ভেগে গেল? সত্যিই উদ্ভট! ভাবী কি করে মায়ের মত হয়? ভাবী তো মাহরাম নয়। ভাই মারা গেলে ভাবীকে বিয়া করা যায়।

দেবরের সামনে ভাবিকে পর্দা করতে হবে। আর ঘরের ইঁদুর বেড়া কাটলে সে ঘর টিকে থাকে না। তেমনি ভাবির জন্য দেবর হল সবচেয়ে বিপজ্জনক। আল্লাহ্ যেখানে এটা হারাম করেছেন সেখানে লোকেরা কিভাবে এটাকে হালাল করতে পারে? সমাজের এসব অশ্লীল প্রচলন থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের এবং কোরআন ও সহীহ হাদীসের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা নারীদের নিকট প্রবেশ করা থেকে সাবধান থেকো।’ একথা শুনে আনসার গোত্রের একব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল- ‘কিন্তু দেবর সম্পর্কে আপনার মত কি? রাসুল (সা.) বললেন- ‘দেবর তো মৃত্যু সমতুল্য।’ (বুখারীঃ ৫২৩২, মুসলিমঃ ২১৭২)

চিন্তা করুন, ইসলাম যেখানে দেবরকে মৃত্যু সমতুল্য বলে ঘোষণা দিলো সেখানে ভাবি মায়ের মত কি করে হতে পারে? আল্লাহ্ আমাদের এই ধরণের সীমালঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

ফেরেশতারা দোয়া করেন ৭ শ্রেণীর মানুষের জন্য

এই পৃথিবীতে ঐ সকল মানুষই সুভাগ্যবান যাদের জন্য আসমানে দোয়া করা হয়। অর্থাৎ ফেরেশতারা দোয়া করেন। আর ফেরেশতারা হচ্ছে নিষ্পাপ, যারা সব সময় আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকে। আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ ভাবে তৈরি করেছেন এবং বিশেষ কিছু ক্ষমতার অধিকারী করেও তাঁদেরকে বানিয়েছেন। ৭ শ্রেণীর মানুষের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন:

১. ওযূ অবস্থায় ঘুমানো ব্যক্তি

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (ওজূ অবস্থায়) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথেই আল্লাহ তাআলার সমীপে ওই ফেরেশতা প্রার্থনায় বলে থাকেন, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছিল।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান)

২. নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষারত ব্যক্তি

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি যখন ওযূ অবস্থায় সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে সে যেন সালাতেই রত। তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি দয়া করো।’ (সহীহ মুসলিম ৬১৯)

৩. প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারী

হযরত বারা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) বলতেন, ‘প্রথম কাতারের নামাযীদেরকে নিশ্চয়ই আল্লাহতালা ক্ষমা করেন ও ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান)

৪. রাসূল (সা.) এর প্রতি দুরূদ পাঠকারী

‘যে ব্যক্তি রাসূল (সা.)এর উপর দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহতালা তার ওপর সত্তর বার দয়া করেন ও তার ফেরেশতারা তার জন্য সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতএব বান্দারা অল্প দুরূদ পাঠ করুক বা অধিক দুরূদ পাঠ করুক (এটা তার ব্যাপার)।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান)

৫. যে ব্যাক্তি রোগী দেখতে যায়

রাসূল (সা.) বলেছেন, যে কোনো মুসলিম তার অপর (অসুস্থ) মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহতালা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ২৯৫৮)

৬. মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী

রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমীন অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনুরূপ অর্থাৎ তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে আল্লাহ তোমাকেও তাই দান করুন। (সহীহ মুসলিম ৮৮)

৭. কল্যাণের পথে দানকারী

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদকে বিনাশ করে দাও।’ (বুখারী ১৪৪২)

যে কারনে চায়না বাঁধ দেখতে সিরাজগঞ্জ যাবেন

চায়না বাঁধ দেখতে সিরাজগঞ্জ! চায়না বাঁধ নামটা শুনলে চীন দেশের কোন স্থানের কথা মনে পড়লেও আসলে এটি আমাদের দেশেই অবস্থিত। তাঁতশিল্পের জন্য বিশ্বের দরবারে পরিচিত হওয়া সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এই চায়না বাঁধ। যমুনা নদীর বুকে তৈরি করা এই বাঁধটি এখানকার মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর তীরে গড়ে তোলা হয় এই বাঁধটি। বাঁধের মূল প্রকট থেকে নদীর ২ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় এই বাঁধ।

নদীর গভীর পর্যন্ত চলে যাওয়ায় এর দু পাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য একে সকলের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলেছে। দু পাশ দিগন্ত জোড়া নদীর পানি আর উপরে আকাশ, মাঝখানে বাঁধে বসে এইরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন এখানে। নদীর বুক জুড়ে বহমান প্রশান্ত হাওয়ায় এখানে পর্যটকদেরও ছুঁয়ে যায়।

চাইলে নৌকায় করে ঘুরতেও পারবেন নৌকায়। বাঁধের উপর নির্মাণ করা হয়েছে পিচ ঢালা রাস্তা। এমন রাস্তা থাকায় যেকোনো যানবাহনে করেই একদম বাঁধের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চলে আসতে পারেন।

চারদিকে জল আর নি শূন্য জনপদ, ঝিরঝির হাওয়া আর কোলাহল হীন শান্ত পরিবেশ মুগ্ধ করে সবাইকে। তাই সকাল বিকেল এখানে পর্যটকদের ভিড়ও লেগে থাকে। সিরজগঞ্জের এই চায়না বাঁধ ক্রসবার ৩ নামেও পরিচিত।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা লাইন পরিবহণ, অভি ক্লাসিক, স্টার লিট পরিবহনের বাস রয়েছে সিরাজগঞ্জে যাবার। এসি বাস ভাড়া ২৫০ টাকা এবং নন এসি বাস ভাড়া ৩৫০ টাকা। মিরপুর ২, ট্যাকনিকাল, সাভার, মালিবাগ, আব্দুল্লাহপুর বিভিন্ন জায়গাতেই এসব বাসের কাউন্টার রয়েছে। 

সিরাজগঞ্জ শহরে নেমে অটোরিকশায় করে চায়না বাঁধ চলে যেতে পারেন সহজেই।

এছাড়া যেতে পারেন ট্রেনে করেও। ট্রেনে করে কাড্ডার মোড়ে নেমে সেখান থেকে সি এন জিতে করে বাজার ষ্টেশন। সেখান থেকে আবার রিকশায় চায়না বাঁধ।

সূত্র : ট্রাভেল বাংলাদেশ